Header Ads Widget

রাশেদ খান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করলেন

রাশেদ খান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করলেন


গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে একটায় ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে সামনে ব্রিফিং করেন গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানছবি: ভ

অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর পদত্যাগ চেয়েছেন গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। তিনি বলেছেন, ‘আপনার পদে থাকার কোনো অধিকার নেই। আমরা আপনার পদত্যাগ দাবি করছি। লজ্জা থাকলে ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ করবেন।’

আজ শনিবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হককে দেখতে গিয়ে এসব কথা বলেন রাশেদ খান।

রাশেদ খান বলেন, ‘দায় থাকুক আর না থাকুক, আমরা মনে করছি, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, আপনি কোনোভাবেই বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। সুতরাং গতকালের ঘটনার পর আপনি আর এই পদে কোনোভাবেই থাকতে পারেন না।’

নুরুল হককে লাঠিপেটা করার ঘটনার সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া লাল শার্ট পরিহিত ব্যক্তির কোনো সম্পর্ক নেই বলেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, ‘নুরুল হকের ওপর সেনাবাহিনীর কতিপয় দুষ্কৃতিকারী হামলা চালিয়েছে। লাল শার্ট পরিহিত ব্যক্তি ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা সম্রাটের ওপর হামলা করেছে।’

রাশেদ খান আরও বলেন, ‘আমাদের ওপর যে হামলা হয়েছে, সে হামলায় সেনাবাহিনী জড়িত এবং পুলিশেরও ভূমিকা ছিল। সেনাবাহিনী কাদের নির্দেশে মাঠে নেমে আমাদের রক্তাক্ত করেছে? সেনাপ্রধানকে তদন্ত সাপেক্ষে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

রাজধানীর কাকরাইলে গতকাল সন্ধ্যায় জাতীয় পার্টি (জাপা) ও গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। জাপার কার্যালয়ের সামনে দিয়ে গণ অধিকার পরিষদের একটি মিছিল যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লাঠিপেটায় গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হকসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।


গণ অধিকার পরিষদ বলেছে, গতকাল সন্ধ্যায় মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় জাপার নেতা-কর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালান। তবে জাপা বলেছে, মিছিল নিয়ে এসে জাপার নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালান গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীরা।

গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, জাপার হামলার প্রতিবাদে রাত সাড়ে ৯টার দিকে গণ অধিকার পরিষদের কার্যালয়ের সামনে সভাপতি নুরুল হক, তিনিসহ নেতা-কর্মীরা সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক এ সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাঁদের ওপর হামলা চালান। এ সময় সভাপতি নুরুল হক, তিনিসহ শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন। নুরুল হক গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁকেসহ ছয়জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে

এ ঘটনায় আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) গতকাল সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, জননিরাপত্তা রক্ষার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলপ্রয়োগে বাধ্য হয়। এ ঘটনায় সেনাবাহিনীর পাঁচজন সদস্য আহত হন বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।

নুরুল হকের চিকিৎসায় উচ্চপর্যায়ের মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানান, নুরুল হকের মাথায় আঘাত রয়েছে। তাঁর নাকের হাড় ভেঙে গেছে। যে কারণে গতকাল অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছিল। আগেই রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়েছে ও জ্ঞান ফিরেছে। তবে ৪৮ ঘণ্টার আগে নুরুল হক আশঙ্কামুক্ত, সেটি বলা সম্ভব নয়

Post a Comment

0 Comments